| বঙ্গাব্দ

গণঅধিকার ছেড়ে বিএনপিতে রাশেদ খান | লড়বেন ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-12-2025 ইং
  • 2760382 বার পঠিত
গণঅধিকার ছেড়ে বিএনপিতে রাশেদ খান | লড়বেন ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষে
ছবির ক্যাপশন: রাশেদ খান

নির্বাচনী কৌশলে বড় চমক: গণঅধিকার ছেড়ে বিএনপিতে রাশেদ খান, লড়বেন ধানের শীষ প্রতীকে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ মুহূর্তে দেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় তৈরি হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মো. রাশেদ খান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগদান করে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

নুরুল হক নুরের ঘোষণা ও নির্বাচনি কৌশল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে এক অডিও বার্তার মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং নির্বাচনে জয়লাভের কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নুর বলেন, "আন্দোলনটি কার্যত বিএনপির নেতৃত্বেই হয়েছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গেই কাজ করছি। রাশেদ খানকে বিএনপির সদস্য পদ নিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।"

রাশেদ খান নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি অনুগত। তার পদত্যাগের পর দ্রুতই গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে একজনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, দলের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নিজের দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে লড়বেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে দলবদল এবং নির্বাচনি জোট গঠনের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৫০-এর দশকে যখন এ অঞ্চলে মুসলিম লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন দল এক হয়ে লড়াই করে যেমন বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, ২০২৫ সালের এই নির্বাচনকেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

১৯৭০-এর নির্বাচন, ১৯৯১ সালে স্বৈরাচার পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব—প্রতিটি অধ্যায়েই দেখা গেছে রাজপথের লড়াকু সৈনিকরা শেষ পর্যন্ত জনগণের অধিকার আদায়ে বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়েছেন। ১৯৫০ সালের সেই অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে ২০২৫ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই প্রমাণ করে যে, কৌশলগত ঐক্যই ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদান এবং ধানের শীষের প্রার্থী হওয়াকে সেই ঐতিহাসিক ধারারই একটি আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লব ও জাতীয় সরকার গঠন নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গত দেড় বছর ধরে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ একই অবস্থানে থেকে কাজ করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার এবং আগামীতে জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে এই নির্বাচনি সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজপথের আন্দোলনের সহযোদ্ধারা যখন একই নির্বাচনি প্রতীকের ছায়াতলে সমবেত হন, তখন তা বিরোধী শিবিরের জন্য যেমন শক্তির বার্তা দেয়, তেমনি তৃণমূলের ভোটারদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে।

রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপি জোটের এক শক্তিশালী প্রার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত হতে যাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের নির্বাচনি সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।


সূত্র: ১. গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ফেসবুক বার্তা ও অডিও বক্তব্য (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. যুগান্তর অনলাইন ও স্থানীয় রাজনৈতিক সংবাদ দাতা (ঝিনাইদহ)। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন পলিটিক্যাল ডেস্ক: বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাস ও জোট রাজনীতির বিবর্তন (১৯৫২-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency